মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর ও লুটপাট: দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৯
AI summary
ঢাকার মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ কার্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট এবং ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার আখতার হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানান।
ডিএমপি জানায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার ও অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেও জানিয়েছে ডিএমপি।
মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রায় ৫০ বছর ধরে দরিদ্র ও অসহায় মা ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতিসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে তারা।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে রাড্ডা এমসিএইচের একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলাকারীরা জমির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’ লেখা একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে চলে যান। এ সময় কার্যালয়ের বিভিন্ন সামগ্রী ও টিকাদানের বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম লুট করা হয়।
এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, হাতুড়ি, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার ও আব্দুল হাইকে মারধর করে বেঁধে রাখেন। পরে এক্সকাভেটর দিয়ে একটি সেমিপাকা ঘর, পরিবার পরিকল্পনা সেবার আরেকটি ঘর এবং ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের কক্ষ ভাঙচুর করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বিভিন্ন কক্ষের আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করেন। আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের দরজা-জানালা ভেঙে ফেলা হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) এবং স্টিলের আলমারি নিয়ে যাওয়া হয়। পরে নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে সেখানে সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগানো হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে একাধিক অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বি (২০)। শনিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। এ সময় তিনি বলেন, ঘটনায় পুলিশের কোনো অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলের কাছেই থানা থাকার পরও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ খবর পাওয়ার পর সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল কি না এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
Follow the story
About this article
- Length
- 428 words · 2 min read
- Published
- September 27, 2026
- Byline
- অধিকার ডিজিটাল ডেস্ক
- Source
- Odhikar